

Urethral stricture বা মূত্রনালী সংকোচন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোলজিক্যাল সমস্যা, যা পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটি মূত্রনালীর কোনো অংশে সংকোচন বা সরু হয়ে যাওয়ার ফলে প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এই রোগটি ধীরে ধীরে রোগীর জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে এবং চিকিৎসা না করলে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এই ফিচারে আমরা রোগটির কারণ, লক্ষণ, নির্ণয়, প্রতিকার এবং প্রতিরোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
মূত্রনালীর গঠন ও কার্যপ্রণালী
মূত্রনালী (urethra) হলো একটি সরু নালী যা কিডনি থেকে ফিল্টার হওয়া প্রস্রাবকে মূত্রথলি থেকে শরীরের বাইরে নিয়ে যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘ এবং যৌনাঙ্গের মধ্য দিয়ে যায়, নারীদের ক্ষেত্রে এটি ছোট এবং সরাসরি মূত্রথলি থেকে বাইরে যায়। পুরুষদের মূত্রনালী তিনটি অংশে বিভক্ত: প্রোস্টেটিক, মেমব্রেনাস এবং পেনাইল ইউরেথ্রা।
Urethral Stricture-এর কারণসমূহ
মূত্রনালী সংকোচনের প্রধান কারণগুলো হলো:
১. আঘাত বা ট্রমা
– বাইক বা সাইকেল দুর্ঘটনায় পেরিনিয়াল ইনজুরি
– যৌনাঙ্গে আঘাত
– পেশেন্ট ক্যাথেটার বা মেডিকেল যন্ত্রের ভুল প্রয়োগ
২. সংক্রমণ
– গনোরিয়া (Suzak), ক্ল্যামাইডিয়া বা অন্যান্য যৌনবাহিত রোগ
– দীর্ঘস্থায়ী ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)
৩. সার্জারি বা চিকিৎসাজনিত কারণ
– প্রোস্টেট সার্জারি
– TURP (Transurethral Resection of the Prostate)
– দীর্ঘমেয়াদি ক্যাথেটার ব্যবহার
৪. জন্মগত ত্রুটি
– কিছু ক্ষেত্রে শিশুর জন্ম থেকেই ইউরেথ্রার গঠনগত সমস্যা থাকতে পারে
৫. স্কার টিস্যু বা ফাইব্রোসিস
– সংক্রমণ বা আঘাতের পর ইউরেথ্রার দেয়ালে স্কার টিস্যু তৈরি হয়ে সংকোচন ঘটায়
লক্ষণসমূহ
Urethral stricture-এর লক্ষণ রোগের তীব্রতা ও সংকোচনের অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
– প্রস্রাবের প্রবাহ দুর্বল বা ছিটে ছিটে আসা
– প্রস্রাব করতে দীর্ঘ সময় লাগা
– প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালা
– বারবার প্রস্রাবের বেগ
– প্রস্রাবের পরও মূত্রথলি পূর্ণ মনে হওয়া
– প্রস্রাবে রক্ত বা পুঁজ
– মূত্রথলিতে সংক্রমণ বা UTI
– কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে (urinary retention)
রোগ নির্ণয় পদ্ধতি
Urethral stricture নির্ণয়ের জন্য ইউরোলজিস্টরা নিচের পরীক্ষাগুলো ব্যবহার করেন:
– Uroflowmetry: প্রস্রাবের প্রবাহ পরিমাপ
– Retrograde urethrogram (RUG): ইউরেথ্রার সংকোচনের অবস্থান ও দৈর্ঘ্য নির্ধারণ
– Cystoscopy: একটি ক্যামেরাযুক্ত নালী দিয়ে ইউরেথ্রার ভেতর দেখা
– Ultrasound বা MRI: জটিল ক্ষেত্রে টিস্যু ও সংক্রমণ মূল্যায়ন
চিকিৎসা ও প্রতিকার
Urethral stricture-এর চিকিৎসা রোগের অবস্থান, দৈর্ঘ্য ও জটিলতার উপর নির্ভর করে। চিকিৎসার ধরণগুলো হলো:
১. Dilatation (প্রসারণ)
– সংকোচনের স্থানে ধীরে ধীরে বড় বড় নল ঢুকিয়ে প্রসারণ করা হয়
– এটি অস্থায়ী সমাধান, পুনরায় সংকোচন হতে পারে
২. Internal Urethrotomy (VIU)
– একটি বিশেষ যন্ত্র দিয়ে সংকোচনের অংশ কেটে ফেলা হয়
– ছোট সংকোচনের ক্ষেত্রে কার্যকর
৩. Urethroplasty (সার্জিক্যাল পুনর্গঠন)
– দীর্ঘ বা জটিল সংকোচনের ক্ষেত্রে ইউরেথ্রার পুনর্গঠন করা হয়
– এটি স্থায়ী সমাধান হিসেবে বিবেচিত
৪. Perineal urethrostomy
– গুরুতর ক্ষেত্রে নতুন ইউরেথ্রাল পথ তৈরি করা হয়
৫. Antibiotics ও supportive therapy
– সংক্রমণ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক
– ব্যথা ও জ্বালা কমাতে supportive medication
৬. হোমিওপ্যাথিক ও ইউনানী চিকিৎসা (সহায়ক পদ্ধতি)
– হোমিও: Clematis erecta, Thiosinaminum, Cantharis
– ইউনানী: Majoon Muqil, Sharbat Bazoori Motadil
– এগুলো রোগের লক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োগ করা হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়
জটিলতা ও ঝুঁকি
চিকিৎসা না করলে Urethral stricture থেকে নিচের জটিলতা হতে পারে:
– মূত্রথলির সংক্রমণ
– কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
– প্রস্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া
– ফিস্টুলা বা অস্বাভাবিক পথ তৈরি
– বন্ধ্যাত্ব (infertility)
প্রতিরোধ ও সচেতনতা
Urethral stricture প্রতিরোধে নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ:
– যৌনবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা: নিরাপদ যৌন আচরণ
– ক্যাথেটার ব্যবহারে সতর্কতা
– প্রস্রাবের সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ
– বাইক বা সাইকেল চালানোর সময় সুরক্ষা
– বারবার সংক্রমণ হলে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ
রোগীর মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক প্রভাব
এই রোগটি দীর্ঘস্থায়ী হলে রোগীর মানসিক চাপ, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রোগীকে মানসিকভাবে সহায়তা করা জরুরি। পরিবার ও চিকিৎসকের সমর্থন রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Urethral stricture একটি জটিল কিন্তু চিকিৎসাযোগ্য রোগ। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোগী সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির পাশাপাশি সহায়ক চিকিৎসা ও সচেতনতা রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। রোগীর সম্মান, গোপনীয়তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করে চিকিৎসা প্রদান করা উচিত।
যোগাযোগ
ডিইউএমএস (ঢাকা) | বিএসএস (জা.বি) | এএপিএনএ (ভারত)
অলটারনেটিভ মেডিসিনে ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা
সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ৩৫৪৬/এ
চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা
সততা প্লাজা,
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার
প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন
রামপুর বাজার, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর
প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন
মোবাইল: 01762-240650
সেবাসমূহ :
শ্বেতী রোগ, যৌন রোগ, সোরিয়াসিস, দাদ, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, থাইরয়েড, পাইলস-ফিস্টুলা, ডায়াবেটিস, টিউমার, জরায়ু টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, পলিপাস, টনসিল, মেহ প্রমেহ, আঁচিল, ব্রণ, বন্ধ্যাত্বর চিকিৎসা।
বুধবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৫






