পুরুষ ও নারী বন্ধ্যাত্বের কারণ ও প্রতিকার

বন্ধ্যাত্ব পুরুষ ও নারীর জন্য একটি জটিল কিন্তু সমাধানযোগ্য সমস্যা। আধুনিক চিকিৎসা যেমন IVF, ICSI, IUI এবং জীবনধারার পরিবর্তন অনেক ক্ষেত্রে সফলতা এনে দিচ্ছে। বাংলাদেশে প্রায় ১৫% দম্পতি বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত, যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে।

বন্ধ্যাত্ব কী?
– সংজ্ঞা: এক বছর ধরে সুরক্ষাবিহীন যৌন মিলনের পরও গর্ভধারণে ব্যর্থতা।
– হার: বাংলাদেশে প্রায় ১৫% দম্পতি আক্রান্ত, শহরে হার বেশি (১৮–২০%), গ্রামে কম (১০–১২%)।

পুরুষ বন্ধ্যাত্বের কারণ
– শুক্রাণুর সমস্যা:
– কম সংখ্যা (অলিগোস্পার্মিয়া)
– দুর্বল গতিশীলতা (অ্যাস্থেনোস্পার্মিয়া)
– অস্বাভাবিক আকৃতি (টেরাটোস্পার্মিয়া)
– হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: টেস্টোস্টেরন, LH, FSH-এর ঘাটতি।
– শারীরবৃত্তীয় সমস্যা: ভ্যারিকোসিল, ব্লকেজ, অণ্ডকোষ না নামা।
– সংক্রমণ: STI, অর্কাইটিস, এপিডিডাইমাইটিস।
– জেনেটিক কারণ: ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোম, সিস্টিক ফাইব্রোসিস।
– জীবনধারা: ধূমপান, অ্যালকোহল, স্থূলতা, পরিবেশ দূষণ।

প্রতিকার
– জীবনধারার পরিবর্তন: ধূমপান ও অ্যালকোহল ত্যাগ, স্বাস্থ্যকর খাদ্য।
– হরমোন থেরাপি: ঘাটতি থাকলে প্রয়োগ।
– সার্জারি: ব্লকেজ বা ভ্যারিকোসিলের ক্ষেত্রে।
– সহায়ক প্রযুক্তি: IUI, IVF, ICSI।
– বিশেষ ক্ষেত্রে: দাতার শুক্রাণু ব্যবহার।

নারী বন্ধ্যাত্বের কারণ
– ডিম্বস্ফোটনজনিত ব্যাধি: PCOS, থাইরয়েড সমস্যা, হরমোন ভারসাম্যহীনতা।
– ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লকেজ: সংক্রমণ বা অস্ত্রোপচারের কারণে।
– এন্ডোমেট্রিওসিস: জরায়ুর বাইরে টিস্যু বৃদ্ধি।
– বয়স: ৩৫ বছরের পর ডিম্বাণুর গুণমান ও পরিমাণ কমে যায়।
– জরায়ুর সমস্যা: ফাইব্রয়েড, পলিপ, অস্বাভাবিক আকৃতি।
– জীবনধারা: স্থূলতা, অতিরিক্ত চাপ, অ্যালকোহল, ধূমপান।

প্রতিকার
– ওষুধ: ডিম্বস্ফোটন উদ্দীপক।
– সার্জারি: এন্ডোমেট্রিওসিস বা ফাইব্রয়েড অপসারণ।
– সহায়ক প্রযুক্তি: IVF, IUI, দাতার ডিম ব্যবহার।
– জীবনধারার পরিবর্তন: ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্য, চাপ কমানো।

তুলনামূলক সারণি

| বিষয় | পুরুষ | নারী |
|——|——-|——|
| প্রধান কারণ | শুক্রাণুর সংখ্যা/গুণমান সমস্যা | ডিম্বস্ফোটন ব্যাধি, টিউবাল ব্লকেজ |
| ঝুঁকি | ধূমপান, অ্যালকোহল, দূষণ | PCOS, এন্ডোমেট্রিওসিস, বয়স |
| চিকিৎসা | হরমোন থেরাপি, সার্জারি, IVF/ICSI | ওষুধ, সার্জারি, IVF/IUI |
| প্রতিরোধ | স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, দূষণ এড়ানো | চাপ কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ |

সামাজিক ও মানসিক প্রভাব
– মানসিক চাপ: দম্পতির মধ্যে হতাশা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন।
– সামাজিক চাপ: বিশেষ করে নারীদের ওপর দায় চাপানো হয়।
– সচেতনতা: উভয়ের পরীক্ষা ও চিকিৎসা জরুরি।

বন্ধ্যাত্ব কোনো একক লিঙ্গের সমস্যা নয়; পুরুষ ও নারী উভয়েরই সমান ভূমিকা রয়েছে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা, জীবনধারার পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে অধিকাংশ দম্পতি সন্তানধারণে সফল হতে পারেন।

*চেম্বার ও যোগাযোগ*

হাকীম মো. মিজানুর রহমান

(ডিইউএমএস, বিএসএস)

চিকিৎসক সরকারি রেজি. নং : 3546/A

ড্রাগ লাইসেন্স নাম্বার : CHA-3435 A/B.

 চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা

সততা প্লাজা, 

ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার 

প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন 

রামপুর বাজার (বলাখাল থেকে উত্তর দিকে),

    হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর

 প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন

ইমো-হোয়াটসঅ্যাপ:  01762240650

মুঠোফোন : 01742057854

01777988889, 01960288007

 *চেম্বারের সময় : প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে ১২টা। বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে চারটা। সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।*

প্রকাশিত : বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.
শেয়ার করুন: