
১. ধাতুক্ষয়
মানে কী: “ধাতু” বলতে এখানে বীর্য/শুক্র বোঝানো হয়। “ক্ষয়” মানে নষ্ট হওয়া বা বের হয়ে যাওয়া।
লোকে যা বোঝে: প্রস্রাবের সাথে, স্বপ্নদোষে, উত্তেজনার সময় বা এমনি এমনি পাতলা বীর্য বের হওয়া, দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা, কোমর ব্যথা, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া ইত্যাদি।
মেডিকেল দৃষ্টিতে: এটাকে বলে Dhat Syndrome। এটা কোনো শারীরিক রোগ না, বরং একটা culture-bound syndrome। দক্ষিণ এশিয়ায় খুব কমন। মূল সমস্যা হলো বীর্য নিয়ে দুশ্চিন্তা আর ভুল ধারণা।
সাধারণ কারণগুলো:
স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ঘটনা: স্বপ্নদোষ বা nocturnal emission ১৩-২৫ বছর বয়সে মাসে ১-৪ বার হওয়া স্বাভাবিক। উত্তেজিত হলে লিঙ্গের আগায় যে পিচ্ছিল তরল আসে সেটা pre-cum, বীর্য না।
প্রস্টেট বা সেমিনাল ভেসিকলের তরল: প্রস্রাবের শেষে বা কোষ্ঠকাঠিন্যে চাপ দিলে সামান্য সাদা তরল আসতে পারে। এটা বীর্য ক্ষয় না।
ইউরিন ইনফেকশন/প্রস্টাটাইটিস: প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘোলা প্রস্রাব, তলপেটে ব্যথা থাকলে ইনফেকশনের কারণে এমন হতে পারে।
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা: বীর্য বের হলেই শরীর শেষ হয়ে যাবে—এই ভয় থেকে দুর্বল লাগা, মনোযোগ না থাকা, বিষণ্ণতা আসে। এটাকে বলে psychosomatic সমস্যা।
২. মেহ রোগ
মানে কী: ইউনানি মতে “মেহ” মানে প্রস্রাবের সাথে ধাতু যাওয়া। অনেক সময় “প্রমেহ” বলতে গনোরিয়া বা যৌনবাহিত রোগও বোঝানো হতো।
লোকে যা বোঝে: ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবের সাথে সাদা কিছু যাওয়া, ধ্বজভঙ্গ, শারীরিক দুর্বলতা।
মেডিকেল দৃষ্টিতে:
ডায়াবেটিস: পুরোনো দিনে ডায়াবেটিসকে “মধুমেহ” বলত। বেশি প্রস্রাব, দুর্বল লাগা ডায়াবেটিসের লক্ষণ।
ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন/STD: গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া হলে লিঙ্গ দিয়ে পুঁজ জাতীয় তরল আসতে পারে।
Spermatorrhea: উত্তেজনা ছাড়াই বীর্য বের হওয়া। খুব রেয়ার, সাধারণত স্নায়ুর সমস্যা বা ক্রনিক প্রস্টাটাইটিসে হয়।
অবিবাহিতদের কেন বেশি মনে হয়?
বয়স: টিনএজ আর ২০-২৫ বছর বয়সে টেস্টোস্টেরন হাই থাকে। তাই স্বপ্নদোষ, হস্তমৈথুনের পর দুর্বল লাগা কমন। বিয়ে না হওয়ায় নিয়মিত যৌন জীবন নেই, তাই এগুলো নিয়ে চিন্তা বেশি হয়।
ভুল ধারণা: “এক ফোঁটা বীর্য = ৪০ ফোঁটা রক্ত” টাইপ কথাবার্তা থেকে ভয় ঢুকে যায়। বাস্তবে শরীর প্রতিদিন কোটি কোটি শুক্রাণু তৈরি করে। বের হলে ক্ষতি নেই।
পর্ন/অতিরিক্ত উত্তেজনা: সারাদিন উত্তেজক কিছু দেখলে pre-cum বারবার আসে। এটাকে অনেকে ধাতুক্ষয় ভাবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য + হস্তমৈথুন নিয়ে গিল্ট: এই দুটো একসাথে হলে প্রস্রাবের শেষে সাদা তরল আসতে পারে। তখন মনে হয় “রোগ হয়ে গেছে”।
কখন ডাক্তার দেখাবে?
এগুলো থাকলে অবশ্যই ইউরোলজিস্ট বা মেডিসিন ডাক্তার দেখান:
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, দুর্গন্ধ, রক্ত
লিঙ্গ দিয়ে পুঁজ বা হলুদ/সবুজ তরল আসা
তলপেটে বা অণ্ডকোষে ব্যথা, জ্বর
হঠাৎ ওজন কমা, অতিরিক্ত পানি পিপাসা – ডায়াবেটিস চেক করাও
দিনে ৪-৫ বারের বেশি নিজে নিজে বীর্য বের হওয়া, আর সেটা আটকাতে পারছো না
কী করবে যদি রোগ না থাকে কিন্তু টেনশন হয়?
স্বাভাবিক মানো: মাসে ২-৮ বার স্বপ্নদোষ স্বাভাবিক। হস্তমৈথুন সপ্তাহে ২-৩ বার করলেও ক্ষতি নেই।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করো: পানি, শাকসবজি, ইসবগুল খাও। চাপ দিয়ে প্রস্রাব/পায়খানা করবে না।
Kegel এক্সারসাইজ: প্রস্রাব আটকানোর মাংসপেশি দিনে ৩ বেলা ১০ বার করে চাপ দাও। Pre-cum কম আসবে।
দুশ্চিন্তা কমান: বীর্য ক্ষয়ে কেউ মরে না, শুকায়ও না। এই ভয়টাই আসল “রোগ”।
ধাতুক্ষয়/মেহ বলতে বেশিরভাগ সময় স্বাভাবিক শারীরিক ঘটনাকে রোগ ভাবা হয়। তবে প্রস্রাবে জ্বালা, পুঁজ, ব্যথা থাকলে সেটা ইনফেকশন বা STD হতে পারে।
সারাদেশে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে কুরিয়ার যোগে অর্ডার অনুযায়ী ঔষধ পাঠানো হয়। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন।
*চেম্বার ও যোগাযোগ*
(ডিইউএমএস, বিএসএস)
চিকিৎসক সরকারি রেজি. নং : 3546/A
ড্রাগ লাইসেন্স নাম্বার : CHA-3435 A/B.
চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা
সততা প্লাজা, ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার , প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন,
রামপুর বাজার (বলাখাল থেকে উত্তর দিকে), হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন : ইমো-হোয়াটসঅ্যাপ: 01762240650
চেম্বারের সময় : প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে ১২টা। বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে চারটা। সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।*
আমাদের সেবাসমূহ : ডায়াবেটিস, শ্বেতী রোগ, যৌন রোগ, সোরিয়াসিস, দাদ, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, সিফিলিস, গনোরিয়া, থাইরয়েড, পাইলস-ফিস্টুলা, টিউমার, জরায়ু টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, পলিপাস, টনসিল, মেহ প্রমেহ, সাদা স্রাব (লিকোরিয়া), মেছতা, কিডনী পাথর, আঁচিল, ব্রণ, বন্ধ্যাত্বর চিকিৎসা।








