সোরিয়াসিস কি? কোন সোরিয়াসিসের কি রকম লক্ষণ দেখা যায়?

সোরিয়াসিস Psoriasis হলো একটি দীর্ঘমেয়াদী অটোইমিউন চর্মরোগ। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে ত্বকের কোষকে দ্রুত বাড়াতে থাকে। সাধারণত ত্বকের কোষ 28-30 দিনে নতুন হয়, কিন্তু সোরিয়াসিসে 3-4 দিনেই নতুন কোষ জমে মোটা আঁশযুক্ত চাকা তৈরি করে।

প্রধানত 5 ধরনের সোরিয়াসিস দেখা যায়। তবে কারো কারো একাধিক টাইপ একসাথে হতে পারে।

সোরিয়াসিসের প্রকার ও লক্ষণ

1. প্লাক সোরিয়াসিস Plaque Psoriasis

80-90% কেস

সবচেয়ে কমন। লালচে, উঁচু, মোটা চাকা যার উপর রুপালি-সাদা আঁশ থাকে। কনুই, হাঁটু, মাথার তালু, পিঠের নিচে বেশি হয়। চুলকানি, জ্বালাপোড়া, ফেটে রক্ত পড়তে পারে। ফর্সা ত্বকে লাল, শ্যামলা/কালো ত্বকে বেগুনি বা গাঢ় বাদামি দেখায়।

2. গাটেট সোরিয়াসিস Guttate Psoriasis

8-10%, বাচ্চা ও টিনেজারদের বেশি

হঠাৎ শরীরে ছোট ছোট ফোঁটার মতো লাল দাগ। সাধারণত বুক, পিঠ, হাত-পায়ে হয়। স্ট্রেপ থ্রোট বা টনসিল ইনফেকশনের 2-3 সপ্তাহ পর শুরু হতে পারে। আঁশ পাতলা হয়।

3. ইনভার্স সোরিয়াসিস Inverse Psoriasis

কমন না

শরীরের ভাঁজে হয় – বগল, কুঁচকি, স্তনের নিচে, নিতম্বের খাঁজে। লাল, মসৃণ, চকচকে প্যাচ। আঁশ তেমন থাকে না কারণ ঘামে ভেজা থাকে। ঘর্ষণ ও ঘামে জ্বালা বাড়ে। ফাঙ্গাল ইনফেকশন ভেবে ভুল হতে পারে।

4. পাস্টুলার সোরিয়াসিস Pustular Psoriasis

বিরল

লাল ত্বকের উপর সাদা/হলুদ পুঁজভর্তি ফোস্কা। পুঁজে জীবাণু থাকে না, ছোঁয়াচে না। শুধু হাতের তালু-পায়ের পাতায় হলে বলে Palmoplantar Pustulosis। সারা শরীরে হলে জ্বর, কাঁপুনি, দুর্বলতা থাকে – এটা মেডিকেল ইমার্জেন্সি।

5. এরিথ্রোডার্মিক সোরিয়াসিস Erythrodermic

সবচেয়ে বিরল, কিন্তু মারাত্মক

শরীরের 80-90% ত্বক গাঢ় লাল হয়ে পুড়ে যাওয়ার মতো দেখায়। প্রচণ্ড চুলকানি, জ্বালা, ত্বক খসে পড়ে। জ্বর, কাঁপুনি, পানিশূন্যতা হয়। হার্ট রেট বেড়ে যেতে পারে। দ্রুত হাসপাতালে না নিলে জীবনের ঝুঁকি থাকে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধরন
স্ক্যাল্প সোরিয়াসিস: মাথার তালুতে মোটা আঁশ, খুশকির মতো ঝরে। চুলের লাইন ছাড়িয়ে কপাল, ঘাড় পর্যন্ত যেতে পারে। প্রচণ্ড চুলকায়।

নেইল সোরিয়াসিস: নখে ছোট গর্ত pitting, নখ মোটা হওয়া, নখের নিচে হলুদ-বাদামি দাগ, নখ আলগা হয়ে উঠে যাওয়া। 50% সোরিয়াসিস রোগীর নখ আক্রান্ত হয়।

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস: 30% সোরিয়াসিস রোগীর হয়। ত্বকের সমস্যার সাথে গিঁটে ব্যথা, ফোলা, সকালে জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকে। আঙুল সসেজের মতো ফুলে যেতে পারে।

মনে রাখবেন:

সোরিয়াসিস ছোঁয়াচে না।
স্ট্রেস, ইনফেকশন, ঠান্ডা আবহাওয়া, কিছু ওষুধ, অ্যালকোহল ও ধূমপানে বাড়তে পারে।
পুরোপুরি সারে না, কিন্তু চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

আপনার বা পরিচিত কারো এই লক্ষণ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সোরিয়াসিসের টাইপ অনুযায়ী ক্রিম, ফটোথেরাপি, মুখে খাওয়ার ওষুধ বা বায়োলজিক ইনজেকশন দেয়া হয়।

সারাদেশে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে কুরিয়ার যোগে অর্ডার অনুযায়ী ঔষধ পাঠানো হয়। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন।

*চেম্বার ও যোগাযোগ*

হাকীম মো. মিজানুর রহমান

(ডিইউএমএস, বিএসএস)

চিকিৎসক সরকারি রেজি. নং : 3546/A

ড্রাগ লাইসেন্স নাম্বার : CHA-3435 A/B.

 চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা

সততা প্লাজা,  ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার , প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন, 

রামপুর বাজার (বলাখাল থেকে উত্তর দিকে), হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

 প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন : ইমো-হোয়াটসঅ্যাপ:  01762240650

চেম্বারের সময় : প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে ১২টা। বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে চারটা। সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।*

আমাদের সেবাসমূহ : ডায়াবেটিস, শ্বেতী রোগ, যৌন রোগ, সোরিয়াসিস, দাদ, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, সিফিলিস, গনোরিয়া, থাইরয়েড, পাইলস-ফিস্টুলা, টিউমার, জরায়ু টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, পলিপাস, টনসিল, মেহ প্রমেহ, সাদা স্রাব (লিকোরিয়া), মেছতা, কিডনী পাথর, আঁচিল, ব্রণ, বন্ধ্যাত্বর চিকিৎসা।

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.
শেয়ার করুন: