
কিডনিতে পাথর হওয়া একটি সাধারণ অথচ যন্ত্রণাদায়ক স্বাস্থ্য সমস্যা যা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে। এটি কিডনির ভেতরে কঠিন খনিজ পদার্থ জমে স্ফটিক আকারে তৈরি হয় এবং সময়ের সাথে সাথে বড় হয়ে প্রস্রাবের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই ফিচারে আমরা কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ, প্রতিরোধের উপায় এবং চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
কিডনিতে পাথর কী
কিডনিতে পাথর বা রেনাল ক্যালকুলি হলো কিডনি বা মূত্রনালীর মধ্যে গঠিত কঠিন স্ফটিক পদার্থ। এটি সাধারণত ক্যালসিয়াম, অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড বা সিস্টাইন জাতীয় পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার ফলে তৈরি হয়। পাথর কিডনিতে থাকতে পারে, আবার মূত্রনালী বা মূত্রাশয়ে নেমে গিয়ে তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
কিডনি পাথরের প্রকারভেদ
১. ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর
২. ক্যালসিয়াম ফসফেট পাথর
৩. ইউরিক অ্যাসিড পাথর
৪. সিস্টাইন পাথর
প্রতিটি পাথরের গঠন ও চিকিৎসা পদ্ধতি আলাদা। তাই রোগ নির্ণয়ের সময় পাথরের ধরন জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ
১. পর্যাপ্ত পানি না পান করা
শরীরে পানির অভাব হলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায় এবং এতে খনিজ পদার্থ জমে পাথর তৈরি হয়
২. অতিরিক্ত লবণ ও প্রোটিন গ্রহণ
খাদ্যে বেশি লবণ ও প্রোটিন থাকলে কিডনিতে ক্যালসিয়াম জমা হয় যা পাথর গঠনের অন্যতম কারণ
৩. পারিবারিক ইতিহাস
পরিবারে কারো কিডনিতে পাথর হলে অন্য সদস্যদেরও ঝুঁকি বেড়ে যায়
৪. অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা
ওজন বেশি হলে শরীরে মেটাবলিক পরিবর্তন ঘটে যা পাথর গঠনের সম্ভাবনা বাড়ায়
৫. অতিরিক্ত ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট
এই উপাদানগুলো অতিরিক্ত গ্রহণ করলে প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়
৬. নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব
শরীরচর্চা না করলে ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ সঠিকভাবে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয় না
৭. নিয়মিত প্রস্রাব না করা
প্রস্রাব আটকে রাখলে খনিজ পদার্থ জমে পাথর তৈরি হতে পারে
৮. নিয়মিত কিছু ওষুধ গ্রহণ
যেমন ডিউরেটিক, অ্যান্টাসিড, স্টেরয়েড ইত্যাদি
লক্ষণসমূহ
১. তীব্র পিঠ বা কোমরের ব্যথা
২. প্রস্রাবে জ্বালা বা রক্ত
৩. বমি বমি ভাব বা বমি
৪. ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ
৫. প্রস্রাব আটকে যাওয়া
৬. জ্বর ও ঠান্ডা লাগা (সংক্রমণ হলে)
প্রতিরোধের উপায়
১. প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন
কমপক্ষে ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করলে প্রস্রাব পাতলা থাকে এবং খনিজ পদার্থ জমে না
২. অতিরিক্ত লবণ ও প্রোটিন এড়িয়ে চলুন
বিশেষ করে রেড মিট, প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিপস, ফাস্টফুড
৩. অক্সালেটযুক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখুন
যেমন পালং শাক, বিট, বাদাম, চকলেট
৪. লেবু ও সাইট্রাস ফল বেশি খান
লেবুর রস সাইট্রেট সরবরাহ করে যা পাথর গঠনে বাধা দেয়
৫. ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করবেন না
খাদ্য থেকে প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম গ্রহণ করুন
৬. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
শরীরচর্চা কিডনির কার্যক্ষমতা বাড়ায়
৭. প্রস্রাব আটকে রাখবেন না
নিয়মিত প্রস্রাব করলে খনিজ পদার্থ জমে না
৮. চিনি ও সোডা জাতীয় পানীয় কম খান
এই পানীয়গুলো ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায়
চিকিৎসা পদ্ধতি
১. ওষুধ
ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক, ইউরিক অ্যাসিড কমানোর ওষুধ
২. লিথোট্রিপসি
শক ওয়েভ দিয়ে পাথর ভেঙে ছোট করা হয়
৩. ইউরেটেরোস্কোপি
একটি সরু নল দিয়ে পাথর বের করা হয়
৪. পারকিউটেনিয়াস নেফ্রোলিথোটমি
বড় পাথর অপারেশনের মাধ্যমে বের করা হয়
৫. ডায়েট পরিবর্তন ও পর্যবেক্ষণ
পাথরের ধরন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা হয়
কবে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
১. ব্যথা সহ্য করা যাচ্ছে না
২. প্রস্রাবে রক্ত
৩. জ্বর ও কাঁপুনি
৪. প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেছে
৫. বমি ও দুর্বলতা
কিডনিতে পাথর একটি প্রতিরোধযোগ্য সমস্যা। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সচেতনতা থাকলে এই সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। তবে একবার পাথর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। পাথর ছোট হলে নিজে থেকেই বেরিয়ে যেতে পারে, কিন্তু বড় হলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। তাই সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যোগাযোগ
ডিইউএমএস (ঢাকা) | বিএসএস (জা.বি) | এএপিএনএ (ভারত)
অলটারনেটিভ মেডিসিনে ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা
সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ৩৫৪৬/এ
চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা
সততা প্লাজা,
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার
প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন
রামপুর বাজার, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর
প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন
মোবাইল: 01762-240650
সেবাসমূহ :
শ্বেতী রোগ, যৌন রোগ, সোরিয়াসিস, দাদ, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, থাইরয়েড, পাইলস-ফিস্টুলা, ডায়াবেটিস, টিউমার, জরায়ু টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, পলিপাস, টনসিল, মেহ প্রমেহ, আঁচিল, ব্রণ, বন্ধ্যাত্বর চিকিৎসা।
বুধবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৫






