জরায়ু টিউমার : কারণ ও প্রতিকার কি?

জরায়ু টিউমার বা ইউটেরাইন ক্যান্সার মূলত জরায়ুর ভেতরের আবরণ (এন্ডোমেট্রিয়াম) বা জরায়ুর পেশীতে (সারকোমা) হতে পারে। এর কারণের মধ্যে রয়েছে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, জেনেটিক প্রবণতা এবং বয়সজনিত পরিবর্তন। প্রতিকারের মধ্যে রয়েছে অস্ত্রোপচার (হিস্টেরেকটমি), রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি এবং জীবনধারার পরিবর্তন।

জরায়ু টিউমার নারীদের মধ্যে একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি সাধারণত দুই ধরনের হয়:
– এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার – জরায়ুর ভেতরের আবরণে সৃষ্টি হয়।
– ইউটেরাইন সারকোমা – জরায়ুর পেশী বা অন্যান্য টিস্যুতে সৃষ্টি হয়।

বিশ্বব্যাপী এটি অন্যতম সাধারণ স্ত্রীরোগজনিত ক্যান্সার। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ৬৬,২০০ নতুন রোগী শনাক্ত হয় এবং প্রায় ১৩,০৩০ জন মৃত্যুবরণ করেন।

জরায়ু টিউমারের কারণ
১. হরমোনজনিত কারণ
– অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাব জরায়ুর আবরণে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
– প্রোজেস্টেরনের ঘাটতি থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।

২. জীবনধারা ও শারীরিক কারণ
– স্থূলতা (Obesity)
– ডায়াবেটিস
– উচ্চ রক্তচাপ
– দীর্ঘ সময় ধরে মাসিক চলা বা দেরিতে মেনোপজ হওয়া

৩. জেনেটিক ও পারিবারিক কারণ
– পরিবারে পূর্বে জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেশি।
– নির্দিষ্ট জিনের মিউটেশন (যেমন Lynch syndrome)।

৪. বয়স ও প্রজনন ইতিহাস
– সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সে বেশি দেখা যায়।
– সন্তান না হওয়া বা দেরিতে সন্তান জন্মদান ঝুঁকি বাড়ায়।

লক্ষণ
– অস্বাভাবিক যোনি রক্তপাত (মেনোপজের পরেও রক্তপাত)
– পেলভিক ব্যথা
– প্রস্রাব বা মলত্যাগে সমস্যা
– অস্বাভাবিক স্রাব

প্রতিকার ও চিকিৎসা
১. অস্ত্রোপচার (Surgery)
– সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা হলো হিস্টেরেকটমি – জরায়ু অপসারণ।
– প্রয়োজনে ডিম্বাশয় ও ফ্যালোপিয়ান টিউবও অপসারণ করা হয়।

২. রেডিয়েশন থেরাপি
– অস্ত্রোপচারের পর বা আগে টিউমার ছোট করতে ব্যবহার করা হয়।
– স্থানীয়ভাবে ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর।

৩. কেমোথেরাপি
– ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে প্রয়োগ করা হয়।
– সাধারণত সারকোমার ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত।

৪. হরমোন থেরাপি
– ইস্ট্রোজেনের প্রভাব কমাতে প্রোজেস্টেরন জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়।
– পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর।

৫. জীবনধারার পরিবর্তন
– ওজন নিয়ন্ত্রণ
– স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
– নিয়মিত ব্যায়াম
– ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

প্রতিরোধ
– নিয়মিত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া
– অস্বাভাবিক রক্তপাত হলে দ্রুত পরীক্ষা করা
– হরমোন থেরাপি গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ
– স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা

জরায়ু টিউমার একটি দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার বিষয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণই রোগীর জীবন বাঁচাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে চিকিৎসা চালিয়ে গেলে অধিকাংশ রোগী আরোগ্য লাভ করতে পারেন।

যোগাযোগ

হাকীম মো. মিজানুর রহমান

ডিইউএমএস (ঢাকা) | বিএসএস (জা.বি) | এএপিএনএ (ভারত) 

অলটারনেটিভ মেডিসিনে ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা 

সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ৩৫৪৬/এ 

 চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা

সততা প্লাজা, 

ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার 

প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন 

রামপুর বাজার, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর

প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন

মোবাইল: 01762-240650

সেবাসমূহ :

শ্বেতী রোগ, যৌন রোগ, সোরিয়াসিস, দাদ, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, থাইরয়েড, পাইলস-ফিস্টুলা, ডায়াবেটিস, টিউমার, জরায়ু টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, পলিপাস, টনসিল, মেহ প্রমেহ, আঁচিল, ব্রণ, বন্ধ্যাত্বর চিকিৎসা।

 

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময় ও চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

শেয়ার করুন: