

সোরিয়াসিস ও শ্বেতী (ভিটিলিগো) দুটি ভিন্ন ধরনের চর্মরোগ হলেও উভয়ের ক্ষেত্রেই খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক খাদ্য নির্বাচন রোগের উপসর্গ হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
নিচে সোরিয়াসিস ও শ্বেতী রোগীদের জন্য উপযোগী ও পরিহারযোগ্য খাবারগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সোরিয়াসিস রোগীদের জন্য খাদ্য নির্দেশিকা
খাওয়ার উপযোগী খাবার
১. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার
– সামুদ্রিক মাছ যেমন স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকারেল
– আখরোট, চিয়া বীজ, ফ্ল্যাক্সসিড
– ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট (ডাক্তারের পরামর্শে)
২. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল ও সবজি
– গাজর, পালং শাক, ব্রকলি, বিট
– বেরি জাতীয় ফল (ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি)
– পেঁপে, আমলকি, কমলা, লেবু
৩. হলুদ (কারকিউমিন)
– প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
– প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে
৪. প্রোবায়োটিক খাবার
– টক দই, কেফির
– ফারমেন্টেড খাবার যেমন কিমচি, সয়ার সস
৫. জলপান ও হাইড্রেশন
– প্রচুর পানি পান
– ডাবের পানি, লেবু পানি
৬. ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার
– ওটস, বাদাম, শস্যদানা
– সবুজ শাকসবজি
৭. ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার
– ডিমের কুসুম, দুধ, মাশরুম
– সূর্যালোক গ্রহণ
পরিহারযোগ্য খাবার
১. লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস
– গরু, খাসির মাংস
– সসেজ, সালামি, হটডগ
২. দুগ্ধজাত খাবার
– দুধ, চিজ, মাখন
– অনেক সময় এগুলো প্রদাহ বাড়াতে পারে
৩. গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাবার
– গম, বার্লি, রাই
– পাউরুটি, পাস্তা, বিস্কুট
৪. চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার
– ক্যান্ডি, কেক, সফট ড্রিংক
– ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট করে
৫. অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন
– শরীরের প্রদাহ বাড়াতে পারে
– লিভারের কার্যক্ষমতা কমায়
৬. প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্ট ফুড
– বার্গার, পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই
– ট্রান্স ফ্যাট ও প্রিজারভেটিভে ভরপুর
৭. টমেটো, বেগুন, আলু
– নাইটশেড শ্রেণির সবজি, যা কিছু রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ বাড়াতে পারে
শ্বেতী (ভিটিলিগো) রোগীদের জন্য খাদ্য নির্দেশিকা
খাওয়ার উপযোগী খাবার
১. ভিটামিন বি১২ ও ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার
– ডিম, দুধ, মাছ
– পালং শাক, ব্রকলি, কলিজা
২. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার
– সবুজ চা, বেরি, আঙুর
– গাজর, বিট, টমেটো
৩. তামা (Copper) সমৃদ্ধ খাবার
– কাজু বাদাম, কুমড়ার বীজ
– মাশরুম, কিডনি বিনস
৪. জিঙ্ক ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার
– ডাল, মটর, বাদাম
– ডিম, মাংস, শাকসবজি
৫. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার
– কমলা, লেবু, আমলকি
– পেয়ারা, স্ট্রবেরি
৬. প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান
– হলুদ, আদা, রসুন
– মধু ও কালোজিরা
৭. পর্যাপ্ত পানি ও হাইড্রেশন
– প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি
– ডাবের পানি, ফলের রস
পরিহারযোগ্য খাবার
১. সাইট্রাস ফল ও টক জাতীয় খাবার
– লেবু, কমলা, টমেটো
– আচার, ভিনেগার
২. দুগ্ধজাত খাবার
– চিজ, দই
– কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে
৩. সামুদ্রিক খাবার
– চিংড়ি, কাঁকড়া, ঝিনুক
– অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে
৪. অতিরিক্ত লবণ ও চিনি
– উচ্চ রক্তচাপ ও ইনসুলিন ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে
– রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়
৫. প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্ট ফুড
– কোল্ড ড্রিংক, প্যাকেটজাত খাবার
– কেমিক্যাল ও প্রিজারভেটিভে ভরপুর
৬. অ্যালকোহল ও ধূমপান
– রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে
– ত্বকের রঙের ভারসাম্য নষ্ট করে
৭. গ্লুটেন ও সয়াবিন
– কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে
– হজমে সমস্যা হতে পারে
অতিরিক্ত টিপস
– প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম করুন
– মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম করুন
– পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
– ত্বককে রোদ থেকে রক্ষা করুন
– চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন
এই খাদ্য তালিকাগুলো সোরিয়াসিস ও শ্বেতী রোগীদের জন্য একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে, তাই যেকোনো খাদ্য পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যোগাযোগ
ডিইউএমএস (ঢাকা) | বিএসএস (জা.বি) | এএপিএনএ (ভারত)
অলটারনেটিভ মেডিসিনে ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা
সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ৩৫৪৬/এ
চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা
সততা প্লাজা,
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার
প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন
রামপুর বাজার, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর
প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন
মোবাইল: 01762-240650
সেবাসমূহ :
শ্বেতী রোগ, যৌন রোগ, সোরিয়াসিস, দাদ, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, থাইরয়েড, পাইলস-ফিস্টুলা, ডায়াবেটিস, টিউমার, জরায়ু টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, পলিপাস, টনসিল, মেহ প্রমেহ, আঁচিল, ব্রণ, বন্ধ্যাত্বর চিকিৎসা।
বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫






