

মানুষের মানসিক জগৎ অত্যন্ত জটিল। কখনো কখনো সেই জটিলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে একজন মানুষের মধ্যে একাধিক ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় বা ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়। এই অবস্থাকে আগে বলা হতো Multiple Personality Disorder (MPD), বর্তমানে এর নাম Dissociative Identity Disorder (DID)। এটি কোনো রহস্যময় বা অলৌকিক বিষয় নয়, বরং গভীর মানসিক আঘাত ও ট্রমাজনিত একটি গুরুতর মানসিক রোগ।
DID কী?
– একজন মানুষের মধ্যে দুই বা ততোধিক পরিচয় থাকে।
– প্রতিটি পরিচয়ের আলাদা স্মৃতি, আচরণ, চিন্তাভাবনা ও আবেগ থাকে।
– রোগী কখনো কখনো নিজের নাম, পরিচয় বা অতীত ভুলে যায়।
– পরিচয় পরিবর্তনের সময় আচরণে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যায়।
কারণসমূহ
১. শৈশবের ট্রমা
– শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতন।
– দীর্ঘস্থায়ী ভয় বা অবহেলা।
২. মানসিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
– শিশুর মস্তিষ্ক আঘাত থেকে বাঁচতে ভিন্ন পরিচয় তৈরি করে।
– প্রতিটি পরিচয় নির্দিষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য গড়ে ওঠে।
৩. পরিবেশগত প্রভাব
– পরিবারে সহিংসতা।
– সামাজিক অবহেলা।
– যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিজ্ঞতা।
লক্ষণ
– স্মৃতিভ্রংশ (Amnesia)।
– আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন।
– ভিন্ন ভিন্ন কণ্ঠস্বর বা ভঙ্গি।
– নিজের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি।
– হ্যালুসিনেশন বা ভয়াবহ স্বপ্ন।
প্রতিকার ও চিকিৎসা
১. সাইকোথেরাপি
– টক থেরাপি: রোগীর ভিন্ন পরিচয়কে একত্রিত করার চেষ্টা।
– ট্রমা-ফোকাসড থেরাপি: অতীতের আঘাত মোকাবিলা।
– কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT): নেতিবাচক চিন্তা পরিবর্তন।
২. মেডিকেশন
– DID-এর জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ নেই।
– অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধ ব্যবহার করা হয় সহায়ক হিসেবে।
৩. সাপোর্ট সিস্টেম
– পরিবার ও বন্ধুদের সহায়তা।
– নিরাপদ পরিবেশ তৈরি।
– দীর্ঘমেয়াদি কাউন্সেলিং।
সামাজিক প্রভাব
– রোগীকে অনেক সময় নাটকীয় বা মিথ্যা বলা হয়।
– চিকিৎসা কঠিন, কারণ লক্ষণগুলো অন্য মানসিক রোগের সঙ্গে মিলে যায়।
– সচেতনতা জরুরি—মিডিয়া ও সমাজে সঠিক তথ্য প্রচার প্রয়োজন।
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তুলনামূলক কম। DID রোগীরা অনেক সময় চিকিৎসা না নিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকেন।
– চ্যালেঞ্জ: মানসিক রোগ নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার।
– সমাধান: জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ।
মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার কোনো রহস্য নয়, বরং এটি একটি গভীর মানসিক আঘাতজনিত রোগ। সঠিক থেরাপি, ধৈর্য ও সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে রোগীরা ধীরে ধীরে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে।
যোগাযোগ
ডিইউএমএস (ঢাকা) | বিএসএস (জা.বি) | এএপিএনএ (ভারত)
অলটারনেটিভ মেডিসিনে ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা
সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ৩৫৪৬/এ
চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা
সততা প্লাজা,
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার
প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন
রামপুর বাজার, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর
প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন
মোবাইল: 01762-240650
সেবাসমূহ : শ্বেতী রোগ, যৌন রোগ, সোরিয়াসিস, দাদ, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, থাইরয়েড, পাইলস-ফিস্টুলা, ডায়াবেটিস, টিউমার, জরায়ু টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, পলিপাস, টনসিল, মেহ প্রমেহ, আঁচিল, ব্রণ, বন্ধ্যাত্বর চিকিৎসা।
রোববার, ০৫ অক্টোবর ২০২৫






