আইবিএস (ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম) রোগের কারণ ও লক্ষণ কি?

আইবিএস (ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম) রোগের প্রধান লক্ষণ হলো দীর্ঘমেয়াদি পেটের অস্বস্তি, মলত্যাগের ধরনে পরিবর্তন, এবং পেট ফাঁপা বা ব্যথা। এটি গঠনগত নয়, বরং পরিপাকতন্ত্রের কার্যগত সমস্যা।

আইবিএস রোগের সাধারণ লক্ষণসমূহ

| লক্ষণ | বিস্তারিত |

| পেট ব্যথা বা অস্বস্তি | সাধারণত নিচের পেটের দিকে, খাওয়ার পর বাড়তে পারে |
| মলত্যাগের ধরনে পরিবর্তন | কখনো ডায়রিয়া, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য, বা দুটোই পর্যায়ক্রমে |
| পেট ফাঁপা ও গ্যাস | অতিরিক্ত গ্যাস জমে পেট ফুলে থাকে |
| মলের ধরনে অস্বাভাবিকতা | অতিরিক্ত নরম, শক্ত, বা অসম্পূর্ণ মলত্যাগ |
| মলত্যাগের পর আরাম পাওয়া | ব্যথা বা অস্বস্তি মলত্যাগের পর কমে যায় |
| আংশিক মলত্যাগের অনুভূতি | মনে হয় পুরোপুরি মলত্যাগ হয়নি |
| শরীর দুর্বল লাগা বা ক্লান্তি | দীর্ঘমেয়াদি অস্বস্তির কারণে |

আইবিএস-এর উপপ্রকার
– IBS-C (কোষ্ঠকাঠিন্য প্রধান): মল শক্ত, কম ফ্রিকোয়েন্সি
– IBS-D (ডায়রিয়া প্রধান): ঘন ঘন নরম বা তরল মল
– IBS-M (মিশ্র): কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য, কখনো ডায়রিয়া

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
– রক্তযুক্ত মল
– রাতের বেলা ঘন ঘন মলত্যাগ
– ওজন হ্রাস
– বয়স ৫০-এর বেশি এবং নতুন উপসর্গ শুরু

অতিরিক্ত তথ্য
– আইবিএসের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি, তবে মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, হরমোন পরিবর্তন, এবং অন্ত্রের স্নায়বিক সংবেদনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আইবিএস এর ওষুধ চলাকালীন মাছ, মাংস, ডিম, দুধ খাওয়া যাবে কিনা — এটা নির্ভর করে আপনার আইবিএস কোন ধরনের এবং কোন খাবারে আপনার সমস্যা বাড়ে তার উপর। ওষুধের সাথে এই খাবারগুলোর সরাসরি কোনো নিষেধ নেই, কিন্তু কিছু খাবার আইবিএস এর লক্ষণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
১. মাছ ও মাংস:
খাওয়া যাবে। আইবিএস এ সাধারণত মাছ, মুরগির মাংস নিরাপদ ধরা হয়।
চর্বি বেশি, ভাজা-পোড়া, খাসির মাংস বা গরুর চর্বিযুক্ত মাংস এড়িয়ে চলুন — এগুলো পেটে গ্যাস, ব্যথা ও ডায়রিয়া বাড়ায়।
গ্রিল, সিদ্ধ বা হালকা ঝোলে রান্না করা মাছ-মাংস সবচেয়ে ভালো।
২. ডিম:
বেশিরভাগ রোগীর জন্য ডিম নিরাপদ। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে ডিমের কুসুমে গ্যাস বা পেট ফাঁপা হয়।
প্রথমে ১টা সিদ্ধ ডিম খেয়ে দেখুন সহ্য হয় কিনা। ভাজা ডিম তেলে ভাজলে সমস্যা বেশি হয়।
৩. দুধ – এটাই সবচেয়ে সতর্ক থাকার বিষয়:
আইবিএস এর অনেক রোগীর ল্যাকটোজ হজম হয় না। দুধ, নরম পনির, আইসক্রিম, মিষ্টি খেলে পেট ফাঁপা, পাতলা পায়খানা, শব্দ হওয়া বাড়ে।
যদি দুধ খেলে সমস্যা বাড়ে, তবে টক দই (বিশেষ করে পানি ঝরানো টক দই), ল্যাকটোজ-ফ্রি দুধ খেতে পারেন। টক দই অনেকের সহ্য হয়।
ওষুধ খাওয়ার সাথে সাথে দুধ না খেয়ে অন্তত ৩০-৪০ মিনিট গ্যাপ রাখা ভালো।
সাধারণ নিয়ম যা মেনে চললে ভালো থাকবেন:
Low FODMAP ডায়েট: ডাল, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পেঁয়াজ, রসুন, অতিরিক্ত মশলা, ডালজাতীয় খাবার, কোমল পানীয়, চুইংগাম এগুলো আইবিএস বাড়ায়।
একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে ৪-৫ বার খান।
প্রচুর পানি খান, নিয়মিত হাঁটুন।

– হাকীম মিজানুর রহমান

(ডিইউএমএস, বিএসএস)

রেজি নাম্বার : 3546/A,

ড্রাগ লাইসেন্স নাম্বার : CHA-3435 A/B.

ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার,

সততা প্লাজা, প্লট নং ২৬. গাউছিয়া মডেল টাউন, রামপুর বাজার, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

(এ ছাড়া আমাদের অন্য কোথায়ও শাখা নেই।)

প্রয়োজনে এই নাম্বারে কল করতে পারেন : ইমো হোয়াটস অ্যাপ : 01762240650

প্রকাশিত : শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.
শেয়ার করুন: