সোরিয়াসিস কেন হয়, আর কিভাবে ভালো থাকবেন?

এটি ছোঁয়াচে নয়, এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি বার্তা

আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ হলো ত্বক। যখন এই ত্বকই বিদ্রোহ করে বসে, তখন জীবনটা কঠিন হয়ে যায়। সোরিয়াসিস এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ, দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন রোগ, যা নিয়ে আমাদের সমাজে ভুল ধারণার শেষ নেই।

সোরিয়াসিস আসলে কী?
সহজ ভাষায়, সোরিয়াসিসে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে নিজের ত্বকের কোষকেই আক্রমণ করে।

স্বাভাবিকভাবে আমাদের ত্বকের কোষ তৈরি হতে প্রায় ২৮ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। কিন্তু সোরিয়াসিসে এই প্রক্রিয়াটা মাত্র ৩ থেকে ৪ দিনে হয়ে যায়। ফলে অপরিণত কোষগুলো ত্বকের উপর জমে পুরু, লালচে দাগ এবং তার উপর রূপালি সাদা আঁশ তৈরি করে। একে বলে প্লাক।

এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। কারো সাথে মেলামেশা, একসাথে খাওয়া বা স্পর্শ থেকে এটি ছড়ায় না।

কেন হয়?
এর নির্দিষ্ট একক কোনো কারণ নেই, কয়েকটি কারণ একসাথে কাজ করে।

১. জেনেটিক বা বংশগত কারণ: পরিবারে কারো থাকলে আপনার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

২. ইমিউন সিস্টেমের গোলমাল: এটি একটি অটোইমিউন রোগ। শরীরের T-cell নামের কোষ ভুল সংকেত দেয়।

৩. ট্রিগার ফ্যাক্টর: কিছু বিষয় রোগটিকে বাড়িয়ে দেয়, যেমন:

অতিরিক্ত মানসিক চাপ
গলা ব্যথা বা স্ট্রেপ ইনফেকশন
শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়া
ত্বকে আঘাত, কাটা বা ঘষা লাগা
ধূমপান ও অ্যালকোহল
কিছু ওষুধ, যেমন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ
প্রধান লক্ষণগুলো কী?
ত্বকে লাল, উঁচু, সীমানাযুক্ত দাগ যার উপর মোটা সাদা আঁশ
চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা
নখে গর্ত হওয়া, নখ মোটা বা ভেঙে যাওয়া
মাথার ত্বকে খুশকির মতো পুরু আস্তরণ
অনেকের ক্ষেত্রে সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস, অর্থাৎ গাঁটে ব্যথা ও ফোলা
সোরিয়াসিসের কয়েকটি ধরন আছে। প্লাক সোরিয়াসিস সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে।

রোগ নির্ণয় কীভাবে হয়?
সাধারণত একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চোখে দেখে এবং ইতিহাস শুনে এটি নির্ণয় করেন। প্রয়োজনে তিনি স্কিন বায়োপসি দিতে পারেন। কোনো রক্ত পরীক্ষা দিয়ে সরাসরি সোরিয়াসিস ধরা যায় না, তবে অন্য রোগ বাদ দিতে পরীক্ষা লাগতে পারে।

খাবারের ভূমিকা: কী খাবেন, কী এড়াবেন
খাবার সোরিয়াসিস ভালো করে না, কিন্তু প্রদাহ কমিয়ে ভালো থাকতে সাহায্য করে।

যা খেতে পারবেন, যা প্রদাহ কমায়:

রঙিন শাকসবজি ও ফল: ব্রকলি, গাজর, পালং শাক, বেরি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ
ওমেগা ৩ যুক্ত মাছ: সামুদ্রিক মাছ যেমন সার্ডিন, ম্যাকারেল
গোটা শস্য ও বাদাম: ওটস, বাদামি চাল, কাঠবাদাম, আখরোট
প্রোবায়োটিক: টকদই
পর্যাপ্ত পানি ও ভিটামিন ডি: রোদ, ডিম, দুধ
যা এড়িয়ে চললে ভালো থাকবেন:

অতিরিক্ত ঝাল, ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড
লাল মাংস ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার
প্রক্রিয়াজাত চিনি, কোমল পানীয়
অ্যালকোহল ও ধূমপান, এগুলো সবচেয়ে বড় ট্রিগার
অনেকের ক্ষেত্রে গ্লুটেন ও অতিরিক্ত দুধ জাতীয় খাবার লক্ষণ বাড়ায়, তবে সবার জন্য নয়
চিকিৎসা ও যত্ন
সোরিয়াসিসের স্থায়ী কোনো নিরাময় নেই, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের তীব্রতার উপর।

১. ত্বকে লাগানোর ওষুধ: ময়েশ্চারাইজার, স্টেরয়েড ক্রিম, ভিটামিন ডি যুক্ত ক্রিম
২. ফটোথেরাপি: নিয়ন্ত্রিত আলোর চিকিৎসা
৩. সিস্টেমিক ওষুধ: বেশি ছড়িয়ে পড়লে মুখে খাওয়ার বা ইনজেকশনের ওষুধ, যা অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে নিতে হবে

বাসায় যত্নের ৫টি নিয়ম:
১. প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, বিশেষ করে গোসলের পর
২. গোসল অতিরিক্ত গরম পানিতে করবেন না, ১০ মিনিটের বেশি নয়
৩. ত্বক খোঁটাখুঁটি করবেন না
৪. মানসিক চাপ কমান, ঘুম ঠিক রাখুন
৫. শীতকালে ত্বক বেশি শুষ্ক হয়, তাই আরও বেশি যত্ন নিন

প্রচলিত ভুল ধারণা
ভুল ১: সোরিয়াসিস ছোঁয়াচে।
সত্য: একদমই না।

ভুল ২: অপরিষ্কার থাকলে হয়।
সত্য: এটি ভেতরের ইমিউন সিস্টেমের সমস্যা, বাইরের ময়লার জন্য নয়।

ভুল ৩: শুধু চর্মরোগ।
সত্য: এটি পুরো শরীরের প্রদাহজনিত রোগ, এর সাথে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও বাতের সম্পর্ক থাকতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
যদি দাগ দ্রুত ছড়ায়, পুঁজ হয়, জ্বর আসে, গাঁটে ব্যথা শুরু হয় বা এর কারণে আপনার সামাজিক জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান।

মনে রাখবেন, সোরিয়াসিস নিয়ে লজ্জা নয়, সচেতনতা দরকার। সঠিক তথ্য, নিয়মিত যত্ন এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে এই রোগ নিয়েও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনযাপন করা সম্ভব।

*চেম্বার ও যোগাযোগ*

হাকীম মো. মিজানুর রহমান

(ডিইউএমএস, বিএসএস)

চিকিৎসক সরকারি রেজি. নং : 3546/A

ড্রাগ লাইসেন্স নাম্বার : CHA-3435 A/B.

 চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা

সততা প্লাজা,  ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার , প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন, 

রামপুর বাজার (বলাখাল থেকে উত্তর দিকে), হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

 প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন : ইমো-হোয়াটসঅ্যাপ:  01762240650

চেম্বারের সময় : প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে ১২টা। বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে চারটা। সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।*

আমাদের সেবাসমূহ :  শ্বেতী রোগ, ডায়াবেটিস, যৌন রোগ, সোরিয়াসিস, দাদ, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, সিফিলিস, গনোরিয়া, থাইরয়েড, পাইলস-ফিস্টুলা, টিউমার, জরায়ু টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, পলিপাস, টনসিল, মেহ প্রমেহ, সাদা স্রাব (লিকোরিয়া), মেছতা, কিডনী পাথর, আঁচিল, ব্রণ, বন্ধ্যাত্ব, বিকল্প চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য’র চিকিৎসা।

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.
শেয়ার করুন: