কিডনি রোগ—কারণ, প্রতিকার ও সচেতনতার অনিবার্যতা

মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি। এটি রক্ত পরিশোধন করে, শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি আক্রান্ত হলে শরীরের সামগ্রিক কার্যক্ষমতা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে কিডনি রোগ একটি নীরব মহামারী হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে। এই রোগের প্রকৃতি, কারণ, প্রতিকার এবং প্রতিরোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা জরুরি।

কিডনির কাজ কী?

মানবদেহে দুটি কিডনি থাকে, যা পিঠের নিচে মেরুদণ্ডের দুই পাশে অবস্থিত। প্রতিটি কিডনি প্রতিদিন প্রায় ৫০ গ্যালন রক্ত পরিশোধন করে। এর মাধ্যমে শরীর থেকে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিনসহ অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। কিডনি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হরমোন (রেনিন), লোহিত রক্তকণিকা তৈরির হরমোন (ইরিথ্রোপয়েটিন) এবং হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভিটামিন D সক্রিয় করে।

কিডনি রোগের প্রকারভেদ

কিডনি রোগকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. তীব্র কিডনি রোগ (Acute Kidney Injury)
– হঠাৎ করে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়
– সাধারণত সংক্রমণ, রক্তচাপের পতন, বা বিষাক্ত ওষুধের কারণে হয়
– সময়মতো চিকিৎসা পেলে পুনরুদ্ধার সম্ভব

 ২. দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (Chronic Kidney Disease)
– ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়
– ৩ মাস বা তার বেশি সময় ধরে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত থাকলে CKD বলা হয়
– শেষ পর্যায়ে পৌঁছালে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন

কিডনি রোগের কারণ

১. ডায়াবেটিস
– কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় কারণ
– উচ্চ রক্তে শর্করা কিডনির রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে

 ২. উচ্চ রক্তচাপ
– কিডনির ফিল্টারিং ইউনিটে চাপ সৃষ্টি করে
– দীর্ঘমেয়াদে কিডনি বিকল হতে পারে

৩. নেফ্রাইটিস
– কিডনির গ্লোমেরুলাসে প্রদাহ সৃষ্টি হয়
– অটোইমিউন রোগ, সংক্রমণ বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হতে পারে

৪. কিডনি পাথর
– প্রস্রাবের রাস্তা বন্ধ করে দেয়
– সংক্রমণ ও ব্যথার কারণ হয়

৫. ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)
– বারবার সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতি হয়

৬. জেনেটিক কারণ
– পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজের মতো বংশগত রোগ

৭. ওষুধের অপব্যবহার
– ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ইত্যাদি কিডনির ক্ষতি করতে পারে

৮. বিষাক্ত পদার্থ
– ভারী ধাতু, কীটনাশক, বা দূষিত পানি

কিডনি রোগের লক্ষণ

প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগের লক্ষণ খুব স্পষ্ট হয় না। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:

– প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা দুর্গন্ধ
– ঘন ঘন প্রস্রাব, বিশেষ করে রাতে
– প্রস্রাবে রক্ত বা ফেনা
– কোমরের দুই পাশে ব্যথা
– মুখ, চোখ, হাত-পা ফোলা
– দুর্বলতা, ক্লান্তি, মনোযোগে ঘাটতি
– উচ্চ রক্তচাপ
– ত্বকে চুলকানি
– ক্ষুধামান্দ্য ও বমি ভাব

রোগ নির্ণয়

কিডনি রোগ নির্ণয়ের জন্য নিচের পরীক্ষাগুলো করা হয়:

– রক্ত পরীক্ষা: ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া, ইলেকট্রোলাইট
– প্রস্রাব পরীক্ষা: প্রোটিন, রক্ত, সংক্রমণ
– ইমেজিং: আল্ট্রাসনোগ্রাফি, CT স্ক্যান
– বায়োপসি: কিডনির কোষ বিশ্লেষণ

প্রতিকার ও চিকিৎসা

 ১. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন
– লবণ, প্রোটিন ও ফসফরাস কম গ্রহণ
– পর্যাপ্ত পানি পান
– প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার

২. জীবনযাত্রার পরিবর্তন
– নিয়মিত ব্যায়াম
– ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার
– মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

৩. ওষুধ
– রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ACE inhibitor বা ARB
– ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন বা ওষুধ
– সংক্রমণ প্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিক

৪. ডায়ালাইসিস
– কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হলে রক্ত পরিশোধনের জন্য প্রয়োজন
– হেমোডায়ালাইসিস বা পারিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস

৫. কিডনি প্রতিস্থাপন
– দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের চূড়ান্ত চিকিৎসা
– জীবিত বা মৃত দাতার কিডনি প্রতিস্থাপন

প্রতিরোধ

কিডনি রোগ প্রতিরোধযোগ্য, যদি সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।

– বছরে অন্তত একবার রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা
– ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
– ওষুধ গ্রহণে সতর্কতা
– বিশুদ্ধ পানি পান
– স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

বাংলাদেশে কিডনি রোগের চিত্র

বাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় পাঁচজন মানুষ কিডনি রোগে মারা যান। প্রায় দুই কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন না। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কিডনি সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

কিডনি রোগ একটি নীরব ঘাতক। প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ না থাকায় অনেক সময় রোগটি ধরা পড়ে না। কিন্তু সময়মতো সচেতনতা, পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। আমাদের উচিত কিডনি স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া, নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করা।

যোগাযোগ

হাকীম মো. মিজানুর রহমান

ডিইউএমএস (ঢাকা) | বিএসএস (জা.বি) | এএপিএনএ (ভারত) 

অলটারনেটিভ মেডিসিনে ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা 

সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ৩৫৪৬/এ 

 চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা

সততা প্লাজা, 

ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার 

প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন 

রামপুর বাজার, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর

প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন

মোবাইল: 01762-240650

সেবাসমূহ :

শ্বেতী রোগ, যৌন রোগ, সোরিয়াসিস, দাদ, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, থাইরয়েড, পাইলস-ফিস্টুলা, ডায়াবেটিস, টিউমার, জরায়ু টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, পলিপাস, টনসিল, মেহ প্রমেহ, আঁচিল, ব্রণ, বন্ধ্যাত্বর চিকিৎসা।

মঙ্গলবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৫

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময় ও চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.
শেয়ার করুন: