সাহরি ০৫:০১
ইফতার ০৬:০৫
ইফতারের বাকি
০০:০০:০০

শীতকালে শরীর ফাটা রোগের কারণ ও প্রতিকার

শীতকালে শরীর ফাটা রোগের মূল কারণ হলো ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া, যা ত্বকের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। প্রতিকার হিসেবে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, গরম পানি এড়িয়ে চলা, এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ অত্যন্ত কার্যকর।

শীতকাল আমাদের জীবনে একদিকে যেমন প্রশান্তি ও উৎসবের আবহ নিয়ে আসে, অন্যদিকে তেমনি কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যাও বাড়িয়ে তোলে। এর মধ্যে অন্যতম হলো *শরীর ফাটা*, যা মূলত ত্বকের শুষ্কতা ও আর্দ্রতার অভাবে ঘটে। এই সমস্যা শুধু অস্বস্তিকরই নয়, বরং ত্বকের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এই ফিচারে আমরা বিশদভাবে আলোচনা করবো শীতকালে শরীর ফাটা রোগের কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে।

শরীর ফাটা বলতে কী বোঝায়?

শরীর ফাটা বলতে সাধারণত ত্বকে ফাটল, চুলকানি, রুক্ষতা, লালচে দাগ বা কখনো কখনো ব্যথাযুক্ত চামড়ার চিরচিরে ভাবকে বোঝানো হয়। এটি মূলত *ত্বকের বাইরের স্তরের আর্দ্রতা কমে যাওয়ার ফলে* ঘটে। শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক সিবাম বা তৈলাক্ততা হারায় এবং ফাটতে শুরু করে।

শরীর ফাটার প্রধান কারণসমূহ

১. শুষ্ক আবহাওয়া
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে, ফলে ত্বক তার প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারায়। এতে ত্বক রুক্ষ ও ফাটলযুক্ত হয়ে পড়ে।

২. গরম পানি দিয়ে গোসল
অনেকে শীতে গরম পানি দিয়ে গোসল করেন, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে। এতে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যায়।

৩. অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার
সাবানে থাকা ক্ষারীয় উপাদান ত্বকের সুরক্ষা স্তর নষ্ট করে দেয়, ফলে ত্বক ফাটে।

৪. অপ্রতুল পানি পান
শীতে পানি কম খাওয়া হয়, ফলে শরীরের ভেতর থেকে আর্দ্রতা কমে যায়।

৫. ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব
বিশেষ করে ভিটামিন A, E ও জিঙ্কের অভাবে ত্বক দুর্বল হয়ে পড়ে।

৬. বংশগত কারণ
কারও ত্বক যদি জন্মগতভাবে শুষ্ক হয়, তাহলে শীতকালে ফাটার প্রবণতা বেশি থাকে।

৭. চর্মরোগ বা অ্যালার্জি
একজিমা, সোরিয়াসিস বা অন্যান্য চর্মরোগ থাকলে শীতকালে তা বেড়ে যেতে পারে।

শরীর ফাটার লক্ষণ

– ত্বকে ফাটল বা চিরচিরে দাগ
– চুলকানি ও জ্বালাভাব
– ত্বক রুক্ষ ও খসখসে হয়ে যাওয়া
– লালচে বা বাদামি দাগ
– কখনো রক্তপাত বা ব্যথা

কোন কোন অংশে বেশি ফাটে?

– হাত ও পায়ের পাতা
– গোড়ালি
– ঠোঁট
– কনুই ও হাঁটু
– পিঠ ও কোমরের পাশ

প্রতিকার ও চিকিৎসা

১. ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার
প্রতিদিন গোসলের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। যেমন: পেট্রোলিয়াম জেলি, গ্লিসারিন, অলিভ অয়েল, কোকোনাট অয়েল।

২. গরম পানি এড়িয়ে চলুন
হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন এবং গোসলের সময় কমিয়ে দিন।

৩. সাবান বেছে নিন সতর্কভাবে
মাইল্ড বা গ্লিসারিনযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন। অ্যান্টিসেপ্টিক বা পারফিউমযুক্ত সাবান এড়িয়ে চলুন।

৪. পানি পান করুন পর্যাপ্ত পরিমাণে
দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।

৫. পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন
ভিটামিন A, E, C ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেমন: গাজর, বাদাম, ডিম, মাছ, শাকসবজি খাওয়া জরুরি।

৬. ঠোঁটের যত্নে লিপবাম ব্যবহার করুন
ঠোঁট ফাটা রোধে নিয়মিত লিপবাম বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন।

৭. চর্মরোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
যদি ফাটা ত্বকে ইনফেকশন বা রক্তপাত হয়, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

ঘরোয়া প্রতিকার

– গোলাপজল ও গ্লিসারিন মিশিয়ে ব্যবহার করুন
এটি ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং ফাটা কমায়।

– দুধ ও মধুর প্যাক
দুধে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ও মধুর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের জন্য উপকারী।

– অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা ত্বকের জ্বালাভাব কমায় এবং আর্দ্রতা ধরে রাখে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

– শীতকালে প্রতিদিন ত্বকের যত্ন নিন
– উলের কাপড়ের নিচে সুতির পোশাক পরুন
– ঘরের ভেতরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন
– ঠান্ডা বাতাসে মুখ ঢেকে রাখুন
– নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করুন, তবে অতিরিক্ত ঘষবেন না

শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা

শিশুদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই তাদের জন্য বিশেষ শিশুদের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে ত্বক পাতলা ও দুর্বল হয়, তাই তাদের জন্যও অতিরিক্ত যত্ন প্রয়োজন।

শীতকালে শরীর ফাটা একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এটি শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি হতে পারে। তাই *সঠিক যত্ন, পুষ্টি ও সচেতনতা* থাকলে এই সমস্যা সহজেই প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা সম্ভব। ত্বকের যত্নে নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তুললে শীতকাল হয়ে উঠবে আরামদায়ক ও সুস্থতার সময়।

যোগাযোগ

হাকীম মো. মিজানুর রহমান

ডিইউএমএস (ঢাকা) | বিএসএস (জা.বি) | এএপিএনএ (ভারত) 

অলটারনেটিভ মেডিসিনে ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা 

সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ৩৫৪৬/এ 

 চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা

সততা প্লাজা, 

ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার 

প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন 

রামপুর বাজার, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর

প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন

মোবাইল: 01762-240650

সেবাসমূহ :

শ্বেতী রোগ, যৌন রোগ, সোরিয়াসিস, দাদ, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, থাইরয়েড, পাইলস-ফিস্টুলা, ডায়াবেটিস, টিউমার, জরায়ু টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, পলিপাস, টনসিল, মেহ প্রমেহ, আঁচিল, ব্রণ, বন্ধ্যাত্বর চিকিৎসা।

বুধবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৫

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময় ও চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.
শেয়ার করুন: